সর্ব্বদা নাম করিবে, তাহাতে গ্রহবৈগুণ্য মুক্ত হইবে" #bedbani #srisriramthakur

 

¤ভক্তপদরজ শ্রীশ্রীরামঠাকুর প্রসঙ্গে

'ভক্তদরদী রামঠাকুর' সম্বন্ধে শ্রীশ্রীঠাকুরের অন্যতম পার্ষদ শ্রীশিতিকন্ঠ সেনগুপ্ত মহাশয় তাঁর এক গ্রন্থে বলেছেন--
-- ঠাকুরের নিজস্ব অহং বলতে কিছু ছিল না, তাই তাঁর অভিমান আসবে কোথা থেকে ? প্রতিটি আশ্রিতের মধ্যে তিনি তাঁর নিজেকেই প্রতিষ্ঠিত দেখতেন। ভক্তের দুঃখেই তাঁর দুঃখ, ভক্তের সুখেই তাঁর সুখ।
এক ভক্ত, ঠাকুর দর্শনে এসে জুতা হারিয়ে ফেলেছেন। দরদী ঠাকুর ব্যস্ত হয়ে নিজেই খাটের তলা থেকে নিজের ব্যবহৃত কাপড়ের জুতা জোড়া ভক্তের হাতে দিয়ে বললেন, - "ধরেন এইটা পায়ে দিয়া যান, না হইলে শীতে কষ্ট পাইবেন।" ভক্তটি আনন্দের আতিশয্যে জুতা জোড়া মাথায় করে নাচতে শুরু করলেন। ঠাকুর তাঁকে বললেন, - "পায়ে দিয়া গেলে কোন দোষ হইব না। আপনারা কি কেবল আমারে মাথায় কইরাই রাখবেন ?"
এক মুচি চৌমুহনি ষ্টেশনে বসে রোজ জুতা সেলাই করে। ট্রেন এসে উপস্থিত হলেই, সে অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করে --দলে দলে লোক কাকে যেন দর্শন করতে যাচ্ছে। একদিন সে তার কাজ সেরে যন্ত্রপাতির ব্যাগটিসহ সকলের পিছনে পিছনে ঠাকুরের বাংলোয় গিয়ে হাজির। দরজায় দাঁড়িয়ে সে একদৃষ্টে ঠাকুরের দিকে তাকিয়ে আছে, ভেতরে ঢুকতে সাহস করছে না। ভক্তপ্রাণ ঠাকুর তাকে দেখিয়ে ভক্তদের বললেন, - "ওনারে ভিতরে আসতে নিষেধ করেন কেনৌ ?" সাহস পেয়ে, সে যেই ঠাকুরের খাটের কাছে গিয়েছে, প্রেমময় অমনি তাকে আলিঙ্গনে আবদ্ধ করলেন। "এইখানে বসেন।"
চৌমুহনিতে সেদিন ভক্ত সমাগম একটু অধিক হয়েছে, নিকটে কেউ নেই যে ভক্তদের বসার জন্য আসন বিছিয়ে দেন। ভক্তদরদী ঠাকুর নিজেই উঠে এসে নিজের গায়ের চাদর খানা মেজেতে বিছিয়ে দিয়ে তাদের বসবার জন্য অনুরোধ করলেন। অগত্যা ভক্তগণ ঐ চাদরের উপরেই বসতে বাধ্য হলেন। সবাই চলে যাওয়ার পর ঠাকুর তাঁর চাদরের খোঁজ করছেন। কে একজন বললেন চাদরখানা ধূয়ে দেবার জন্য রাখা হয়েছে। "না, আমার চাদর আমারে দেন।" চাদর পেয়ে ঠাকুরের কী আনন্দ! চাদরখানা গায়ে জড়াচ্ছেন আর বলছেন, - "ভক্তপদরজ - ভক্তপদরজ!"
৺কুঞ্জবাবুর স্ত্রীর খুবই আপসোস, সারাদিন ভক্তগণের সেবা করতেই তাঁর সময় চলে যায়, ঠাকুরের কাছে দুদণ্ড বসবারও তাঁর অবসর হয় না। ঠাকুর একদিন তাঁকে সান্তনা দিয়ে বললেন, -- "মা! ভক্তের সেবা করলেই আমার সেবা করা হয়।"
মোটকথা -- ভক্তই ঠাকুরের প্রাণ। ভক্তের জন্যই ভগবান।
¤ জয় রাম ¤

শ্রীশ্রীরামঠাকুর - প্রসঙ্গ
( তৃতীয় খণ্ড )
শ্রীশিতিকন্ঠ সেনগুপ্ত
( পৃঃ ৬৭, ৬৮ )

Post a Comment

Previous Post Next Post

Popular Items