Skip to main content

ঠাকুর বললেন, আমি সর্বদা আছি – শ্রী শ্রী রামঠাকুরের অনুপ্রেরণামূলক বাণী

 ঠাকুর বললেন, আমি সর্বদা আছি – শ্রী শ্রী রামঠাকুরের অনুপ্রেরণামূলক বাণী

 নমস্কার! 🙏
আপনাদের স্বাগতম জানাই আমাদের আজকের বিশেষ ভিডিওতে। আজ আমরা শুনবো শ্রী শ্রী রামঠাকুরের একটি অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প ও তাঁর অসীম করুণাময় বাণী। তাঁর জীবন ও শিক্ষা আমাদের শুদ্ধতা ও ভক্তির পথ দেখায়।
জয় গুরু! জয় রাম!
এই ভিডিওটি দেখে আপনি ঠাকুরের ভালোবাসা ও তাঁর উপস্থিতি আপনার জীবনে অনুভব করতে পারবেন।

 

 ঠাকুর বললেন , আমি ত আপনার বাড়িতে সর্ব্বদাই আছি । আপনি বুঝতে পারেন না ? জয় গুরু জয় রাম । গুরু কৃপাহি কেবলম । সুপ্রভাত । আর যারা এমন তাঁকে বেশি দর্শনী এনেছেন , তাদের ঠাকুরের সামনে আমরা উপস্থিত করেছি তাঁর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও । এই যে ভক্ত সাজার সখ , আর ব্যবসাদারী আচরণ , এতেই বিরক্ত হয়ে ঠাকুর চলে গেলেন । তাঁর বকুনী আমাদের কাছে শ্রেষ্ঠ আশীর্বাদ । তাঁর এই সাবধান বাণী আমাদের শুদ্ধির জন্যে । কিন্তু আমাদের চিরশুদ্ধি কি সহজে হয় ? পারের দিন সকালে উঠেই কর্তা ( কুঞ্জলাল মজুমদার ) বেলেঘাটায় কৈলাস বাবুর বাড়িতে গেলেন । ঠাকুর বসে আছেন । প্রণাম করতেই ঠাকুর কর্তার নাম ধরে ডেকে বললেন , আপনি আসছেন , ভালো হইছে । সকাল হইতে আপনের কথা মনে হইতেছে । মাত্র একদিনের ব্যবধান । 

কিন্তু কথার সুরে মনে হয় যেন কত দিন পর দেখা । আগের দিন যিনি এত বকলেন , তার পরদিনই সকালে তাঁর কি পরিবর্তন ! মানুষে আর ভগবানে এই প্রভেদ । মানুষের বাকায় থাকে বিদ্বেষ আর ভগবানের থাকে ভালবাসা । ঠাকুর যে কত আপনার তা বুঝাই যায় না । ঠাকুর কর্তাকে তাঁর পাশেই বসতে বললেন । বসার পর ওর মাথায় , গায়ে অনেকক্ষণ হাত বুলিয়ে আদরের সুরে বললেন , কাইল খোলা গাড়িতে আসছি , হওয়া লাইগা মাথা ঠাণ্ডা হইছে । তারপর বাড়ির আর সকলের খবরা-খবর নিলেন । 

 বেলা হলে উনি প্রণাম করে উঠার আগে ঠাকুরকে জিজ্ঞেস করলেন , বাবা আপনি আমাদের বাড়ি কবে যাইবেন ? ঠাকুর বললেন , আমি ত আপনার বাড়িতে সর্ব্বদাই আছি । আপনি বুঝতে পারেন না ? কর্তা আর কি বলবেন , উত্তরে শুধু বললেন , বাবা আপনার দয়া অনুভব কইরা থাকি ।

 


আজকের কাহিনী শ্রীমতী কিরণবালা মজুমদারের স্মৃতি থেকে নেওয়া। ঠাকুর বলেছিলেন, "আমি ত আপনার বাড়িতে সর্বদাই আছি। আপনি বুঝতে পারেন না?" এই কথায় তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ভগবান সর্বদা আমাদের সঙ্গে আছেন।
ঠাকুরের ভক্তদের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা, শাসন এবং আশীর্বাদ আমাদের জীবনে সঠিক পথ দেখায়।

আমরা জানলাম, কীভাবে ঠাকুরের নিষেধ সত্ত্বেও কেউ তাঁকে ব্যবসাদারীর সঙ্গে যুক্ত করেছিল, যা তাঁকে বিরক্ত করেছিল। তবুও, ঠাকুরের ভালোবাসা অপরিসীম। তিনি আমাদের শুদ্ধতার পথে ডাক দেন।
মানুষ আর ভগবানের মধ্যে প্রভেদ এখানেই—মানুষে বিদ্বেষ থাকতে পারে, কিন্তু ভগবানের বাক্যে থাকে কেবল প্রেম।

এ কাহিনীতে আমরা আরও দেখতে পাই, কীভাবে ঠাকুর কর্তা কুঞ্জলাল মজুমদারের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন এবং তাঁর উপস্থিতি অনুভব করান। তিনি আমাদের শিক্ষা দেন যে ভক্তি এবং বিশ্বাসই ভগবানের করুণা অর্জনের একমাত্র পথ।


 

এই গল্পটি আমাদের শিখিয়েছে যে, ভগবান আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে উপস্থিত। আমরা যদি তাঁর উপস্থিতি অনুভব করতে পারি, তবে আমাদের জীবন আরও সুন্দর এবং শান্তিময় হয়ে উঠবে।

আপনাদের মতামত আমাদের জানাতে ভুলবেন না। যদি ভিডিওটি ভালো লাগে, তবে লাইক করুন, শেয়ার করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলে।
পরবর্তী ভিডিওতে আবার দেখা হবে শ্রী শ্রী রামঠাকুরের আরও অনুপ্রেরণামূলক বাণী নিয়ে।

 

 

 জয় গুরু জয় রাম । 

শ্রীমতী কিরণবালা মজুমদার ।

 ঘরের ঠাকুর শ্রী রামচন্দ্র । 

পৃষ্ঠা সংখ্যা ৫০ হইতে । 

জয় শ্রী রাম ঠাকুর।

 জয় গুরু সত্য নারায়ণ

 

Comments

Popular posts from this blog

👉 কীর্তনের প্রকৃত রীতি | শ্রীশ্রী ঠাকুরের উপদেশ | Naam Sankirtan Mahima@...

  ¤ ভক্তপদরজ ¤ শ্রীশ্রীরামঠাকুর প্রসঙ্গে ¤ ¤ ¤ ¤ ¤ ¤ মৃণাল মজুমদার 'ভক্তদরদী রামঠাকুর' সম্বন্ধে শ্রীশ্রীঠাকুরের অন্যতম পার্ষদ শ্রীশিতিকন্ঠ সেনগুপ্ত মহাশয় তাঁর এক গ্রন্থে বলেছেন-- -- ঠাকুরের নিজস্ব অহং বলতে কিছু ছিল না, তাই তাঁর অভিমান আসবে কোথা থেকে ? প্রতিটি আশ্রিতের মধ্যে তিনি তাঁর নিজেকেই প্রতিষ্ঠিত দেখতেন। ভক্তের দুঃখেই তাঁর দুঃখ, ভক্তের সুখেই তাঁর সুখ। এক ভক্ত, ঠাকুর দর্শনে এসে জুতা হারিয়ে ফেলেছেন। দরদী ঠাকুর ব্যস্ত হয়ে নিজেই খাটের তলা থেকে নিজের ব্যবহৃত কাপড়ের জুতা জোড়া ভক্তের হাতে দিয়ে বললেন, - "ধরেন এইটা পায়ে দিয়া যান, না হইলে শীতে কষ্ট পাইবেন।" ভক্তটি আনন্দের আতিশয্যে জুতা জোড়া মাথায় করে নাচতে শুরু করলেন। ঠাকুর তাঁকে বললেন, - "পায়ে দিয়া গেলে কোন দোষ হইব না। আপনারা কি কেবল আমারে মাথায় কইরাই রাখবেন ?" এক মুচি চৌমুহনি ষ্টেশনে বসে রোজ জুতা সেলাই করে। ট্রেন এসে উপস্থিত হলেই, সে অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করে --দলে দলে লোক কাকে যেন দর্শন করতে যাচ্ছে। একদিন সে তার কাজ সেরে যন্ত্রপাতির ব্যাগটিসহ সকলের পিছনে পি...

🔥 নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ভক্তির বিজয়! এক রহস্যময় সাক্ষাৎ 🔥

 🔥 নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ভক্তির বিজয়! এক রহস্যময় সাক্ষাৎ 🔥 📜 একটি পুরনো দরজায় লেখা ছিল নিষেধাজ্ঞা... 🚶‍♂️ কিন্তু এক ভক্ত এগিয়ে গেলেন... 💭 তিনি কি "নাম" পাবেন? 😨 ঠাকুরমহাশয় কি রুষ্ট হবেন? ✨ অথবা, তার ভাগ্যে অপেক্ষা করছে এক অলৌকিক আশীর্বাদ? ⏳ অপেক্ষার অবসান ঘটবে এই গল্পে... ⚡ রহস্য, ভক্তি ও এক গোপন সিদ্ধান্ত—সবকিছু জানতে দেখুন ভিডিওটি!   চিত্তবাবু সাত তাড়িতাড়ি করে একটি ধূতি ও একটি শার্ট খবরের কাগজে মুড়ে বেরিয়ে পড়লেন।রাতে এসে পৌঁছুলেন তার দাদার মক্কেলের বাড়ি।সেখানেই রাত্রিবাস করবেন স্থির হলো এবং ঐ মক্কেলের কাছে এও জানতে পারলেন যে,ঠাকুরমহাশয় ফেণীতেই আছেন।তিনি নিজে সন্ধ্যার পরে ঠাকুর দর্শন করেই বাড়ি ফিরেছেন। ভোরের আলো তখনও ফুটে ওঠেনি।চিত্তবাবু তাড়াতাড়ি পুকুরে স্নান করে ধোওয়া জামা কাপড় পরে প্রস্তুত হয়ে নিলেন।ঠাকুরমহাশয় তখন ছিলেন ফেণী কলেজের অধ্যাপক প্রমথনাথ চক্রবর্ত্তী মহাশয়ের বাসগৃহে।চিত্তবাবুর দ্রুতপদে অগ্রসর হতে লাগলেন সেই বাড়ির দিকে দুরু-দুরু বক্ষে,এই ভেবে ঠাকুরমহাশয় যদি তাকে "নাম" না দেন! তিনি শুনেছেন ঠাকুরমহাশয় যাদের "নাম" দেন,বিনিময়ে এক কপ...